উন্নয়নশীল দেশে মেটার ফ্রি ইন্টারনেট মানুষের ব্যয় বাড়াচ্ছে

২৯ জানুয়ারি, ২০২২ ২১:০৭  
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মেটার ফ্রি ইন্টারনেট সেবা সাধারণ মানুষের ব্যয় বাড়াচ্ছে। সফটওয়্যার-সংক্রান্ত বিভিন্ন ত্রুটির কারণে ব্যবহারকারীরা অযাচিত ব্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রাপ্ত নথি ও তথ্যের ভিত্তিতে ফ্রান্সিস হাউগেন দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের কাছে এ কথা জানান। খবর দ্য ভার্জ ও বণিক বার্তা। খবরে বলা হয়, ভিডিওসহ বিভিন্ন পেইড ফিচার ফ্রি ইন্টারনেট সেবায় ব্যবহারকারীদের সামনে এলেও ক্লিপগুলোর ডাটা চার্জের বিষয়ে সতর্কবার্তা দেখায় না। ব্যবহারকারী কনটেন্টে ক্লিক করলে তারা মোবাইল ডাটা বা অর্থ খরচের সম্মুখীন হন। উন্নয়নশীল দেশের যেসব ব্যবহারকারীর জন্য প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে, তাদের জন্য এ বিল পরিশোধ করা কষ্টসাধ্য। ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যবহারে অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য লাভজনক হয়েছে। গত গ্রীষ্মের তথ্যানুযায়ী প্রতি মাসে মোবাইল নেটওয়ার্ক পরিষেবা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ৭৮ লাখ ডলার বিল গ্রহণ করছে। পাকিস্তানে বিষয়টি আরও গুরুতর। দেশটিতে ব্যবহারকারীরা প্রতি মাসে ১৯ লাখ ডলার বিল দেন। মেটার এক মুখপাত্র অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি স্বীকার করেন এবং সফটওয়্যারে বিদ্যমান সমস্যার সমাধানে কাজ শুরুর কথাও জানান। ফ্রি মোডটির নতুন ভার্সনে টেক্সট অনলি ট্যাগ রয়েছে। মুখপাত্র জানান, প্রতি মাসে ৭৮ লাখ ডলারের যে ফি নেয়া হতো, সেটি ক্যারিয়ারগুলোর বিলিংয়ের ভিত্তিতে তৈরি হতো না। ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহার বাবদ অতিরিক্ত চার্জের পরিমাণ ৩০ লাখ ডলারের কাছাকাছি। ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুগলের মতো মেটারও আগ্রহ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ পরিষেবার যে বিস্তৃতি হয়েছে, তার পুরোটাই বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের কল্যাণে সম্ভব হয়েছে। কিছু দেশের মানুষ জীবনে প্রথমবার ইন্টারনেট ব্যবহারের স্বপ্ন দেখেছেন। ফ্রি ইন্টারনেট সেবার মাধ্যমে যে শুধু ফেসবুকসহ মেটা মালিকানাধীন অন্যান্য প্লাটফর্ম ব্যবহার করা যায় তা নয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির প্লাটফর্মে নতুন ব্যবহারকারীদের সাইন আপ ও এর পরিধি বিস্তারে কাজ করে। অপ্রয়োজনীয় বিলিংয়ের পাশাপাশি মেটার ফ্রি ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ে আরও বেশকিছু বিষয় রয়েছে। অতিরিক্ত ডাটা ব্যবহারে মোবাইল নেটওয়ার্ক ক্যারিয়ারের পরিবর্তে ইন-অ্যাপ সিস্টেমে অর্থ প্রদান ব্যবস্থা রাখায় কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সেই সঙ্গে কিছু দেশে লোনের ব্যবস্থাও প্রশ্ন তৈরি করেছে। এসবের পাশাপাশি প্লাটফর্মে নিজস্ব কনটেন্ট দেখতে ব্যবহারকারীদের প্রভাবিত করার অভিযোগও রয়েছে। যেখানে প্রতিষ্ঠানটি অন্যান্য কনটেন্ট দেখার ক্ষেত্রে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এক বিবৃতিতে মেটা জানিয়েছিলো, প্রতিষ্ঠানটি সব ইন্টারনেট ট্রাফিককে সমান সুবিধা দেবে। তবে হাউগেন যে নথি ফাঁস করেছেন, সেখানে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোনো উদাহরণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বাজারে প্রযুক্তি জায়ান্টদের আধিপত্য ঠেকাতে নতুন আইনের প্রস্তাব তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সিনেট প্যানেল। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান পার্টির সিনেটরদের নিয়ে গঠিত প্যানেলটি বলছে, প্লাটফর্মে নিজস্ব পণ্য ও সেবাকে অগ্রাধিকার দেয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবছেন তারা। সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটিতে বড় ব্যবধানে পাসের পর বিলটি নিয়ে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে ভোটাভুটি হবে। বিলটির পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোট পড়লে তা আইনে পরিণত হবে। সিনেট প্যানেলে প্রস্তাবিত নতুন আইন কার্যকর হলে প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো একচেটিয়া সুযোগ পাবে না। উদাহরণস্বরূপ, অ্যামাজনের ই-কমার্স প্লাটফর্মে প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানির পণ্যের চেয়ে নিজস্ব পণ্যকে বেশি অগ্রাধিকার দেয়া যাবে না। ডিবিটেক/বিএমটি